মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলার ঐতিয্য

কলাপাড়া উপেজলার পটভূমি
 
কলাপাড়া বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলাউপজেলা শহর খেপুপাড়া নামেও পরিচিত। এর আয়তন ৪৮৩.২৭ বর্গ কিলোমিটার । উত্তর ও পশ্চিমে আমতলী উপজেলা পূর্বে রাবনাবাদ চ্যানেল ও গলাচিপা উপজেলা এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা এই উপজেলায় অবস্থিতজেলা শহর থেকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব প্রায় ৭০.৫০ কিলোমিটারএকই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার বিরল সুযোগ থাকায় কুয়াকাটা বিশ্বের অনন্য পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
বাঙালী সংস্কৃতির পাশাপাশি আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এ উপজেলাকে আরও বেশী বৈচিত্র্যময় , আকর্ষণীয় ও সমৃদ্ধ করে তুলেছে।
১৯০৬ সালে কলাপাড়া থানা গঠিত হয় এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে। কলাপাড়া উপজেলা মোট
১২ টি ইউনিয়ন ২ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ইউনিয়নের নাম হলো- চাকামইয়া, টিয়াখালী, লালুয়া, মিঠাগঞ্জ , নীলগঞ্জ, মহিপুর, লতাচাপলী, ধানখালী, ধুলাসার, বালিয়াতলী, ডালবুগঞ্জ চম্পাপুর এবং পৌরসভার নাম হল কলাপাড়া ও কুয়াকাটা।
কলাপাড়ার একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলনের শুরুর দিককার উপজেলা কলাপাড়া। সমবায়ের মাধ্যমে কলাপাড়া বৃটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম বায়ু চালিত ধান ভাঙানো কল। আরো গড়ে উঠেছে তেল কল, ম্যাচ ফ্যাক্টরি, ছাপাখানা, সিনেমা হল, সমবায় মার্কেট ও আরো অনেক কিছু। সমবায় আন্দোলন এখন ঝিমিয়ে পড়েছে।

কলাপাড়ায় দেশের চারটি রাডার স্টেশনের একটি অবস্থিত। ১৯৭৬ সালে কলাপাড়ায় বিদ্যুৎ পৌঁছে। টেলিফোন সুবিধাও পৌঁছে গেছে একই সময়ে। বাংলাদেশের চারটি ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্রের একটি কলাপাড়ার অন্ধারমানিক নদীর মোহনায় অবস্থিত। কলাপাড়া মৎস্যবন্দর হিসেবেও খ্যাত।

নামকরণঃ
উপজেলার নাম কলাপাড়া হলেও খেপুপাড়া নামে সমভাবে  পরিচিত। খেপু ও কলাউ নামে রাখাইন দুই ভাই জঙ্গল কেটে এই অঞ্চল মানুষ বসবাসের উপযোগি করে তোলে। কথিত আছে উপজেলা শহরের মধ্য দিয়ে উত্তর দক্ষিণে প্রবাহিত একটি খালের দুই পাড়ে খেপু ও কলাউ  বাস করত । পূর্ব পাড়ে কলাউ মগ ও পশ্চিম পাড়ে খেপু মগ। কলাউ মগের নামানুসারে পূর্ব পাড়ের বসতির নাম কলাপাড়া এবং খেপু মগের নামানুসারে পশ্চিম পাড়ের গ্রামের নাম হয় খেপুপাড়া।

খেপু ও কলাউ রাঙ্গাবালী থেকে এখানে এসেছে বলে জানা যায়। কলাউ ছিলেন বড় ভাই আর খেপু ছিলেন ছোট ভাই। দুই জন দুই পাড়ার মাতুব্বর ছিলেন। কলাউ মাতবর প্রায় ৮০ বৎসর বেঁচে ছিলেন। তাঁদের ঘর-বাড়ি ও সমাধি আন্ধারমানিক নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছে।

দুই পাড়া বিভক্তকারী খালটি  পুরাতন কাঠপট্টি স্লুইজ গেট থেকে শুরু করে কুমারপট্টি কালর্ভাট ও আখড়াবাড়ি কালভার্ট হয়ে চিংগড়িয়ার পাশ দিয়ে এখনো প্রবাহমান। কালক্রমে উক্ত দুটি নাম একই শহরের স্থায়ী  নামে রূপান্তরিত হয়।